ইসলামীক বিধান মতে শিশুর মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব ও সময়সীমা 

 

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর = শিশুর মস্তিষ্ক ও মানসিক বিকাশের জন্য মায়ের বুকের দুধের কোন বিকল্প নেই। শিশু জন্মের পর হতে কমপক্ষে ৬ মাস বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা; যা শিশুরস্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু শিশুর জন্যই উপকারী নয়, এটি মায়ের জন্যও বেশ জরুরি। এর ফলে মায়ের সঙ্গে শিশুর মানসিক সংযুক্তি তৈরি হয়। সেইসঙ্গেমায়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। শিশু গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে প্রথম ২ বছর অর্থাৎ এই এক হাজার দিন সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তার ভবিষ্যৎ মেধা, বুদ্ধি, আবেগীয় ও সামাজিক, বিকাশ নিশ্চিত হয়। দুধপানে উদ্বুদ্ধকরতে মহানবী (সঃ) বলেন স্তন্যদানকারী ও গর্ভবর্তী মহিলা থেকে রমজানের রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও মিশকাত) তাই শিশুর বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারেপ্রতিটি মায়ের সচেতন হওয়া দরকার।

>>>কুরআনের আলোকে মাতৃদুগ্ধ পান করার সময়সীমা<<<
********************************
শিশু মায়ের বুকের দুধ কতবছর পর্যন্ত পান করবে তা আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। এখানে আল্লাহ তা‘আলা শিশুর জননীদেরকে লক্ষ্য করে বলেন যে,

যে পিতা তার সন্তানের দুধ পানের সময়-কাল পূর্ণ করতে চায়, সে ক্ষেত্রে মায়েরা পুরো দু’বছর নিজেদের সন্তানদের দুধ পান করাবে। বাকারা ২৩৩

এখানে তিনি শিশুদেরকে দুধ পান করানোর পূর্ণ সময় বলে দিচ্ছেন দু’বছর। আবারঅন্যত্র সূরা লুকমানে ১৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন-

আর ২২ প্রকৃতপক্ষে আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার হক চিনে নেবার জন্য নিজেই তাকিদ করেছি৷ তার মা দুর্বলতা সহ্য করে তাকে নিজের গর্ভে ধারণ করে এবং দু’বছর লাগে তার দুধ ছাড়তে ৷
ইমাম শাফে’ঈ (র), ইমাম আহমাদ (র), ইমাম আবু ইউসুফ (র) ও ইমাম মুহাম্মাদ (র) এ অর্থ গ্রহণ করেছেন যে, শিশুর দুধ পান করার মেয়াদ ২ বছরে পূর্ণ হয়ে যায়৷ এ মেয়াদকালে কোন শিশু যদি কোন স্ত্রীলোকের দুধপান করে তাহলে দুধ পানকরার “হুরমাত” (অর্থাৎ দুধপান করার কারণে স্ত্রীলোকটি তার মায়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়ে যাওয়া এবং তার জন্য তার সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যাওয়া ) প্রমাণিত হয়ে যাবে৷ অন্যথায় পরবর্তীকালে কোন প্রকার দুধ পান করার ফলে কোন”হুরমাত” প্রতিষ্ঠিত হবে না৷ এ উক্তির স্বপক্ষে ইমাম মালেকেরও একটি বর্ণনা রয়েছে৷ কিন্তু ইমাম আবু হানীফা (র) অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার উদ্দেশ্যে এ মেয়াদকে বাড়িয়ে আড়াই বছর করার অভিমত ব্যক্ত করেন৷ এই সঙ্গে ইমামসাহেব একথাও বলেন, যদি দু’বছর বা এর চেয়ে কম সময়ে শিশুর দুধ ছাড়িয়ে দেয়া হয় এবং খাদ্যের ব্যাপারে শিশু কেবল দুধের ওপর নির্ভরশীল না থাকে, তাহলে এরপর কোন স্ত্রীলোকের দুধ পান করার ফলে কোন দুধপান জনিত হুরমাতপ্রমাণিত হবে না৷ তবে যদি শিশুর আসল খাদ্য দুধই হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য খাদ্য কম বেশি কিছু খেয়ে নিলেও এ সময়ের মধ্যে দুধ পানের কারণে হুরমাত প্রমাণিত হয়ে যাবে৷ কারণ শিশুকে অপরিহার্যভাবে দু’বছরেই দুধপান করাতে হবে, তবে দুই বছর পরে দু’টি শিশু একত্রে দুধ পান করলে তারা তাদের পরস্পরের দুধ ভাই বা দুধ বোন হওয়া সাব্যস্ত হবে না। সুতরাং তাদের মধ্যেবিয়ে হারাম হবে না। অধিকাংশ ইমামের এটাই মাযহাব। জামেউত তিরমিযীতে এই অধ্যায় রয়েছেঃ ‘যে দুধ পান দ্বারা (বিয়ের) নিষিদ্ধতা সাব্যাস্ত হয় তা এই দু’বছরের পূর্বেই।’ (তিরমিযী ৪/৩১৩) অতঃপর হাদীস আনা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ দুধ পান দ্বারাই নিষিদ্ধতা (পরস্পরের বিয়েরনিষিদ্ধতা) সাব্যাস্ত হয়ে থাকে যে দুগ্ধ পাকস্থলীকে পূর্ণ করে দেয় অর্ধাৎ যে দুধ খেলে পেট ভরে যায় এবং তা দুধ ছাড়ার পূর্বে হয়।’ এই হাদীসটি হাসান সহীহ। অধিকাংশ জ্ঞানী, সাহাবীগণ (রাঃ) প্রমুখের এর উপরই আমল রয়েছে যে, দু’বছরেরপূর্বের দুধ পানই বিয়ে হারাম করে থাকে। এর পরের সময়ের দুগ্ধ পান বিয়ে হারাম করে না। অতএব সর্বসম্মতিক্রমে শিশুকে ২ বছর থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত দুধ পান করানো যাবে।

লেখকঃ
সভাপতি, ইসলাম প্রচার পরিষদ, খুলনা মহানগরী
চেয়ারম্যান
খুলনা কম্পিউটার ট্রেনিং এন্ড ডিজাইন হাউজ
খুলনা হোমিও চিকিৎসা কেন্দ্র

০১৯১৩-৩৩৩২৩১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*