জান্নাতের নেওয়ার জন্য আল্লাহ মুমিনদের কি করবেন ?

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর = আল্লাহ মুমিনদের জান্নাতে নেওয়ার জন্য অবশ্যই পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা ছাড়া আল্লাহ কোন বান্দাকে জান্নাতে নিবেন না। আর বান্দার পরীক্ষা ছাড়া এমনিতেই জান্নাতে যাওয়ার আশা করা বাতুলতা ছাড়া কিছুই নয়।
এ সম্পর্কে সূরা আনকাবুত 2-3 নং আয়াতে মহান আল্লাহর পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছেন-
أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ
২) লোকেরা কি মনে করে রেখেছে, “আমরা ঈমান এনেছি” কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে, আর (ঈমান আনার দাবীর উপর সত্যতা যাচায় করতে)পরীক্ষা করা হবে না?
وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ
৩) অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন কে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যাবাদী৷
ইবনে কাছীর তার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে কাসীরে লিখেছেন-“পরীক্ষার পূর্বে জান্নাতে যাওয়ার আশা করা ঠিক নয়”।
সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ) তার তাফসীর গ্রন্থে লিখেছেন-
আল্লাহ তায়ালা মোমিনদের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচায়-বাচায় ও সংসোধন করতে চান, যাতে তারা বেহেস্তে প্রবেশ করতে পারে ও প্রবেশ কারার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। ফি-জিলালিল কুরআন
আল্লাহ প্রত্যেকটা যুগের উম্মতেরই পরীক্ষা নিয়েছিলেন। প্রতিটা উম্মতের উপরেই নেমে এসেছে কষ্ট-ক্লেশ, বিপদ-মসিবত, জুলুম-নির্যাতন। তারা আল্লাহদ্রোহী মানব সমাজের কঠোর বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন এমনকি ইসলামের প্রতি ঈমান আনার কারনে তাদের কেউ কেউ দু’দণ্ডের জন্য নিশ্চিন্তে আরামে বসে থাকতে পারেনি৷ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ঃ ‘এখনই তোমরা ভীত হয়ে পড়লে? জেনে রেখ , পূর্ববর্তী ঈমানদারদের মাথার উপর করাত রেখে তাদেরকে পা পর্যন্ত ফেঁড়ে দ্বিখণ্ডিত করে দেয়া হত, কিন্তু তথাপি তারা তাওহীদ ও সুন্নাত হতে সরে পড়তনা। লোহার চিরুণী দিয়ে তাদের দেহের গোশ্ত আঁচড়ানো হত, তথাপি তারা আল্লাহর দীন পরিত্যাগ করতনা।এভাবেই আল্লাহ ঈমান আনার দাবীদারদের কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে চান আসলে তাদের ঈমান আনার দাবীতে তারা কতটুকু সত্যপন্থী। আর এ সত্যবাদীদের জন্যই হলো আল্লাহর জান্নাত। যেমন আল্লাহ বলেন-مْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّهِ ۗ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ﴾
তোমরা কি মনে করেছো, এমনিতেই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে? অথচ তোমাদের আগে যারা ঈমান এনেছিল তাদের ওপর যা কিছু নেমে এসেছিল এখনও তোমাদের ওপর সেসব নেমে আসেনি ৷ তাদের ওপর নেমে এসেছিল কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদ-মুসিবত, তাদেরকে প্রকম্পিত করা হয়েছিল ৷ এমনকি সমকালীন রসূল এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা চীৎকার করে বলে উঠেছিল, কবে আসবে আল্লাহর সাহায্য? অবশ্যিই আল্লাহর সাহায্য নিকটেই –বাকারা-২১৪। অতএব প্রতিটিা ঈমান আনার দাবিদারকে যে কোন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং তা সফল ভাবে উত্তির্ণ হতে হবে তবেই জান্নাত লাভের আশা করা যাবে। তাই যে কোন কষ্ট, জুলুম, বিপদ-আপদ বা ক্ষতির সম্মুক্খিন হলে তা আল্লাহর পরীক্ষা মনে করে ধৈর্যের সাথে তা মুকাবেলা করা ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করাই হলো হলো মুমিনের কর্তব্য।
মহান রাববুল আলামীন আমাদের সকল পরীক্ষা সফলভাবে উত্তির্ণ হওয়ার তৌফিক দান করুন আমিন।
ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলাম প্রচার পরিষদ, খুলনা মহানগরী

ফেসবুক লিংক-https://www.facebook.com/shifulla.mansur

মোবাইল নং-01913-333231

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*