নেশাখোরকে উপকার করতে গিয়ে শেষমেষ প্রাণ হারাতে হল সাপকে

sa-89917গোখরা সাপ কামড়ালে বাঁচার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কিন্তু জগতে কত কিছুই তো ঘটে। ভারতের বিহারে এমন একজনকে পাওয়া গেল যিনি নেশার তাগিদ মেটানোর জন্য নিজ থেকে নিয়মিত গোখরা সাপের কামড় খেতেন।

গোখরা সাপের বিষে একধরণের নেশা হত তার শরীরে। একারণে নিজেই গোখরা সাপটি লালন পালন করতেন তিনি।

কিছুদিন আগে বিহারে মদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার পর বেশ বিপাকে পড়েন লালন সিংহ নামের এই ব্যক্তি। যাদের বেশি টাকা আছে তারা কোন না কোনভাবে মদ জোগাড় করলেও লালনের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাড়না থেকে এই অভিনব নেশা শুরু করেন তিনি।

মদের অভাবে দিশেহারা হয়ে উঠেন লালন। কিছুদিন একটি ট্যাবলেট ও খান শুধু নেশা হবার জন্য। পরে পরিচিত নেশাখোরদের সাথে পরামর্শ করে একটি গোখরা সাপ পালন করতে শুরু করেন তিনি। বাড়ির কাছে একটি প্লাস্টিকের কৌটায় সাপটিকে রাখতেন তিনি।

সাপটিকে তিনি মাঝে মাঝে এক দুটি ব্যাঙ খেতে দিতেন। যখনই নেশা করা দরকার তখন কৌটার আঙুল ঢুকিয়ে দিতেন। লালন সিংহের মতে, সাপটির একটি কামড়েই এক বোতল বিদেশি মদের মত নেশা হত তার।

তাকে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ঘরের লোকেরা ভাবতেন বোধহয় লালন সিংহ কোন না কোন জায়গা থেকে নেশা করে এসেছে।

এভাবেই চলছিল অনেকদিন। কিন্তু হঠাৎ একদিন সাপের কামড় খেয়েই তাল সামলাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যান লালন। পরিবারের লোকেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে দেখে অবাক হন। এতদিন ধরে গোখরার কামড় খেয়েও তার কিছু হয়নি।

জ্ঞান ফেরার পর সাপের বিষে নেশার এই অভিনব গল্প শুনে পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরে মেরে ফেললেন সাপটিকে। নেশাখোরের উপকার করতে গিয়ে শেষমেষ প্রাণ হারাতে হল সাপকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*