ইরানে উদ্ধারকাজ শেষ নিহত বেড়ে ৫৪০

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ ঘোষণা করেছে ইরান। রোববার রাতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪০ জনে। আহত হয়েছেন ৮ হাজারের বেশি লোক। ইরানের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রধান পীর হোসেইন কুলিভান্দ বলেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। এদিকে তীব্র শীতের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে দ্বিতীয় রাত পার করেছে। মঙ্গলবার জাতীয় শোক পালন করেছে ইরান। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। ইরান-ইরাক সীমান্তে রোববার আঘাত হানা ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশের বেশকিছু গ্রাম, শহর ও পাহাড়ি এলাকা বিধ্বস্ত হয়। এ সময় সেখানে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভূমিকম্পে ইরানের অন্তত ১৪টি প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তুরস্ক, কাতার, কুয়েত ও ইসরাইলেও রোববার রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কিছু কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরাঘাতের কারণে থেমে থেমে ১৫২ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে ইরানে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।

কেরমানশাহ প্রদেশের সারপোল-ই-জাহাব শহরে ভূমিকম্পে ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী আলী গুলানি বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন, ‘তাঁবুতে আমাদের যথেষ্ট খাবার নেই। আপনি শুনতে পাচ্ছেন বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে। বরফে জমে যাওয়ার মতোই শীত পড়ছে।’ আরেক নারী বলেন, তাঁবুর সংখ্যা কম ছিল। তাই পরিবার নিয়ে কনকনে শীতের মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। ওই নারী বলেন, ‘রাতে অনেক ঠাণ্ডা ছিল। আমাদের জরুরিভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। সরকারের উচিত আমাদের দ্রুত সহায়তা করা।’ স্থানীয় এক সংস্থা জানায়, প্রায় ৭০ হাজার লোকের সহায়তা প্রয়োজন। এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিদেশি সাহায্য নেয়ার আপাতত প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ। মঙ্গলবার সকালে এক টুইট বার্তায় জারিফ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের নিজেদের যে সামর্থ্য রয়েছে, তা দিয়েই সংকট নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘সরকার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে রয়েছে এবং তাদের সেবা করে যাবে।’ রুহানি বলেন, ‘ভূমিকম্পকবলিত অঞ্চলের অধিবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। ভূমিকম্পে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার তাদের সহযোগিতা করবে এবং ঋণ দেবে।’ এ সময় তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রেসিডেন্ট রুহানির সফরের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রেজা রাহমানি বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে সোমবার দুর্গত এলাকায় ছুটে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*