টেকনাফের অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমনপিপাসুদের  হাতছানি দিয়ে ডাকছে

সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ =  সাগর-নদী বিদৌত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সৃষ্টি টেকনাফ। সুবিশাল বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর অপূর্ব দৃশ্যের রূপ প্রকৃতির লীলাভূমি টেকনাফ। বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্হান।  এখানকার সৈকত বেশ মোহনীয়, যেন ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাংলাদেশ-মায়ানমার বিভক্তকারী নাফ নদীর উপরে নানা ধরনের সামুদ্রিক পাখির ওড়াউড়ি আর নির্জন সৈকতে হেঁটে অবলোকন করা যায় প্রকৃতির সৌন্দর্য। পাখির কলকাকলিতে নাফ নদী দিয়ে সকালবেলার সূর্যোদয় আর বিশাল বিস্তৃত সমুদ্রের ঢেউয়ের সুরেলা গর্জনে সন্ধ্যাবেলার সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। দিগন্ত প্রসারিত মাঠের মাঝে মাঝে ছোট ছোট গ্রাম ও বাড়িগুলো পটে আঁকা ছবির মতোই সুন্দর। প্রকৃতির যেন এক রঙ্গশালা। নদী ও সমুদ্রের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের এমন নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য বিশ্বের অন্য কোথাও আর দেখা যায় না তেমনভাবে। চারদিকে সবুজের মেলা আর মেলা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে দেখা যায় দিগন্তব্যাপী সবুজের নয়ন ভোলানো সমারোহ। টেকনাফে রয়েছে অমর প্রেমের চিরসাক্ষী ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ। পাষাণ ধীরাজের জন্য চৌদ্দ বছর বয়সী মাথিনের আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস। যে মাথিন অসম প্রেমকে অমর করতে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে রচনা করে গেছেন অমর প্রেমকাব্য। পর্যটন মৌসুমে প্রেয়সী মানুষের পদভারে মুখরিত হয় এই ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অদূরে দেখা মিলবে ‘কুদুমগুহা’। এই অজানা গুহার সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের এখনো নেই কোনো ধারণা। কুদুমগুহায় রয়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির বানর। টেকনাফে রয়েছে বিশাল বিস্তৃত পাহাড় বেষ্টিত বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য। রয়েছে পর্যটনের অন্যতম দর্শনীয় স্থান টেকনাফ ন্যাচার পার্ক। যেখানে রয়েছে মায়া হরিণ, অজগর, চিতা, বাঘ, হাতি, হনুমান ও হরেকরকম বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি। তাছাড়া রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ গর্জন গাছের (মাদার ট্রি নামেও পরিচিত) সারি সারি বাগান ও পাহাড়ি প্রবহমান ঝরনা। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করে চলছে। রয়েছে নেটং পাহাড় যেটি আবার দেবতার পাহাড় নামেও পরিচিত। নেটং পাহাড়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটিশ সৈন্যদের তৈরি করা বাঙ্কার ও বিভিন্ন পুরাকৃীর্তি নিদর্শন। যার চূড়ায় উঠলে দেখা মিলবে নাফ নদীর সৌন্দর্যের অপরূপ দর্শন। দেখা মিলবে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক বন্দর টেকনাফ সহল বন্দরের পাশে ঘেঁষা নয়ন ভোলানো পর্যটন স্পট জইল্যার দ্বীপ। নদী-সাগর বিধৌত প্রাকৃতিক রূপ-বৈচিত্র্যে শোভিত এমন স্থান বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। যদি টেকনাফের দর্শনীয় স্থানগুলোকে আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় আনা যায় তবে টেকনাফ হতে পারে বাংলাদেশের তথা বিশ্বের পর্যটন শিল্পের আকর্ষণীয় স্বর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*